কাশিয়ানীতে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে রাতের আঁধারে জাহাঙ্গীর হাওলাদার নামে এক খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গুদামে ধান সরবরাহের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাশিয়ানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার রামদিয়া সরকারি খাদ্যগুদামে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই খাদ্যগুদামের নিরাপত্তা প্রহরী মশিউর রহমান মিথুনকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হাওলাদার বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। কাশিয়ানী থানার জি.ডি নং-৭৪৩। ঘটনার পর থেকে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মৌখিক অভিযোগ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই কর্মকর্তা।

খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ‘খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ধান-চালের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছে না। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উন্মুক্তভাবে ধান-চাল কেনার নির্দেশ দেন। আমি এ পর্যন্ত কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ৪শ’ টন ধান কিনেছি। আমার খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজের ভাতিজা মশিউর রহমান মিথুন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে আমার সাথে দূর্ব্যবহার ব্যবহার করে। ঘটনার আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মশিউর ৭/৮ জন বহিরাগত লোক নিয়ে খাদ্যগুদামে ঢুকে আমাকে বলেন- আপনি কিভাবে ধান চাল সংগ্রহ করছেন। আপনি কি জানেন এখানে একজন লিডার আছে। যার কথায় এখানের লোকজন চলে। সে হলো আমার কাকা ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ। এরপর রাত ১১ টার দিকে নিরাপত্তা প্রহরীর সহযোগিতায় ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজসহ ৫ জন লোক খাদ্যগুদামে প্রবেশ করে আমাকে এবং আমার অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘুম থেকে ডেকে অফিসে নিয়ে যায়। আমাকে চেয়ারে বসিয়ে সবাই চারপাশে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকে। এক পর্যায় ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ ধান সরবরাহের জন্য ২শ’ বস্তা দাবি করেন। এরই মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন কোমরে গোটা অস্ত্র দেখিয়ে বলে আমাদের কথা না শুনলে তোকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেব। তোর মতো দু’চারটা ফেলে দিলে কিছুই হবে না। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমার জীবনের নিরাপত্তা নাই। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।’

কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয় আমি কিছুই জানি না। স্থানীয় কিছু লোক সিন্ডিকেট করে খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছিল। কৃষকরা অভিযোগ করলে আমি অনিয়মের প্রতিবাদ করি।’

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, খাদ্য কর্মকর্তা আমার অফিসে এসে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনার সাথে জড়িত নিরাপত্তা প্রহরী মশিউর রহমানকে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আইনি সহায়তা চাইলে তাকে সহায়তা করা হবে।

গোপালগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শেফাউর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

নোটিশ

অনুমতি ব্যাতিত এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা নিষেধ, কপি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।