স্বজনেরা এগিয়ে না আসায় করোনায় মৃত ব্যক্তির সৎকার করলেন গোপালগঞ্জ সদর ইউএনও সাদিকুর রহমান খান

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ পৌর শ্মশানে আজ দুপুরে নিত্যনন্দ বল্লভের মরদেহ সৎকার করেছেন ইউএনও মো: সাদিকুর রহমান খান।
গত শনিবার বিকালে জেনারেল হাসপাতালে মারা যান কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের নারায়রখানা গ্রামের নিত্যনন্দ বল্লভ (৬০)। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়ায় লাশ সৎকারে স্বজনেরা কেউ এগিয়ে আসেননি। ছেলে হাসপাতালে পিতার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। অবশেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিকুর রহমান খান সৎকারের ব্যবস্থা করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিত্যনন্দ বল্লবের মৃত্যু হওয়ার পর লাশ নিতে আসেনি পরিবারের স্বজনরা। ফলে লাশ নিয়ে বিপাকে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্রধান গেটে পড়ে আছে করোনায় মৃত্যুবরনকারী নিত্যনন্দ বল্লবের লাশ। লাশের পাশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রোগী ও লোকজন যাতায়াত করছে।

 

হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকালে করোনা ইউনিটের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নিত্যনন্দ বল্লব নামে এক ব্যক্তির। সে গত ৬ জুন কোটালীপাড়া থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। মৃত্যুর খবরটি তার স্বজনদের জানানো হলেও তারা আর কোনো খোঁজ নেননি। হাসপাতালের প্রধান গেটে তার লাশ পড়ে আছে। পাশ দিয়ে শত শত মানুষ যাওয়া আসা করছে। ছড়িয়ে পড়তে পারে তার কাছ থেকে করোনা ভাইরাস।

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: অসিত মল্লিক ও সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ জানান,
গত শনিবার বিকালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রোগী মারা যান। আমরা নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি; কিন্তু তার ছেলে কাগজপত্রে লাশ বুঝে নিলেও পরে লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তার লাশ পৌর শ্মশানে দাহ করার ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মৃত নিত্যনন্দ বল্লবের বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের নারায়ন খানা গ্রামে।

নোটিশ

অনুমতি ব্যাতিত এই সাইটের কোন লেখা বা ছবি কপি করা নিষেধ, কপি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।